একসময়ের জনপ্রিয় শিক্ষক এখন খাবারের প্লেট ধুয়ে সংসার চালাচ্ছেনএকসময়ের জনপ্রিয় শিক্ষক এখন খাবারের প্লেট ধুয়ে সংসার চালাচ্ছেন – বিডি রাইট
একসময়ের জনপ্রিয় শিক্ষক এখন খাবারের প্লেট ধুয়ে সংসার চালাচ্ছেন

একসময়ের জনপ্রিয় শিক্ষক এখন খাবারের প্লেট ধুয়ে সংসার চালাচ্ছেন

এক সময় সংসারে অনেক কিছু ছিল। সচ্ছল সংসারে ভালোই সুখে শান্তিতে দিন পার করেছি। কিন্তু ভাগ্যের নি’র্মম পরিহাস। এখন আম’রা নিঃস্ব। সন্তানদের ভালো খাওয়াতে পারিনা, ছেঁড়া কাপড় পরিয়ে রেখেছি তাদের। এক বেলা খাওয়া হলেও অন্য বেলা না খেয়ে থাকতে হয়। লজ্জায় কাউকে বলতেও পারিনা।

কথাগুলো বলেন এক সময়ের জনপ্রিয় শিক্ষক রইচ উদ্দিনের স্ত্রী’ জয়নব খাতুন। তিনি আরো কোনো উপায় না পেয়ে শিক্ষক স্বামী আমা’র এখন একটি হোটেলে বয়ের কাজ করেন। অথচ নিজ হাতে তিনি শিক্ষা দিয়েছেন বহু ছাত্র-ছা’ত্রীকে। তারা এখন সমাজে প্রতিষ্ঠিত। জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজে’লার কানুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ছিলেন আমা’র স্বামী।

 

শিক্ষক রইচ উদ্দিন জানান, গত ২০১৮ সালের ২৪ মে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। অর্থ সম্পদ তেমন না থাকলেও চাকরি জীবনে বেশ কিছু সঞ্চয়ও করেছিলেন। কয়েক বছর আগে বিদ্যালয় থেকে বাই-সাইকেল যোগে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘনায় তার বাম পা ভেঙে যায়। এর চিকিৎসায় খরচ করেন সঞ্চয়ের সব টাকা। শুধু তাই নয়, নিজের বসতভিটা পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়। শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও এক পা ছোট আর এক পা বড় হয়ে যায়, এতে ভালো’ভাবে হাঁটতে পারেন না।

 

অবসর গ্রহণের পর কর্মের জন্য পারি জমান রাজধানী ঢাকায়। চাকরি নেন একটি পলিথিন কারখানায়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার জন্য সেখানে বেশি দিন চাকরি করতে পারেনি তিনি। নিরাশ হয়ে ফিরতে হয় নিজ এলাকায়। জীবন জীবিকা চালাতে হোটেল বয় হিসেবে কাজ নেন জয়পুরহাট শহরের রেড প্লেস নামক চাইনিজ হোটেলে। খাবারের প্লেট ধোয়া, টেবিলে পানি দেয়া, গ্লাস পরিষ্কার, টিস্যু পেপার সরবরাহ করা তার কাজ। এ কাজে তিনি প্রতিদিন ১০০ টাকা পারিশ্রমিক পান। পরিবারে দৃষ্টি প্রতিব’ন্ধী স্ত্রী’সহ রয়েছে দুইটি মে’য়ে সন্তান। অর্থের অভাবে ভর্তি করাতে পারেননি কোনো স্কুলে। জয়পুরহাট শহরের বিশ্বা’স পাড়া এলাকায় ৯০০ টাকায় ভাড়া দিয়ে একটি ছোট্ট ঘরে বসবাস করছেন এক সময়ের জনপ্রিয় শিক্ষক রইচ উদ্দিন ওরফে টিপু।

 

কানুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিনি একজন দায়িত্ববান শিক্ষক ছিলেন। ২০১৮ সালের মে মাসে অবসর নিলেও অবসর ও কল্যাণ তহবিলের টাকা উঠানোর ফাইল প্রস্তুত করতে তিনি বিলম্ব করেন। আমি নিজে দায়িত্ব নিয়ে দ্রুত ফাইল প্রস্তুত করে পাঠিয়েছি। তার এমন অবস্থা সত্যিই দুঃখজনক।

 

জে’লা শিক্ষা অফিসার (ভা’রপ্রাপ্ত) শাহাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি স’ম্পর্কে এরই মধ্যে আমি অবগত হয়েছি। তার অবসরের টাকা অ’তি দ্রুত পাওয়ার জন্য ব্যবস্থা নেব। শিক্ষক সমাজকে তার পাশে এগিয়ে আসা উচিত।

খবরটি শেয়ার করুন





© ২০২০ | বিডি রাইট কর্তৃক সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত
Design BY NewsTheme