সাহেদের চেয়েও বড় প্রতারক স্যার সলিমুল্লাহ খানের বংশধর পরিচয় দেওয়া নবাবসাহেদের চেয়েও বড় প্রতারক স্যার সলিমুল্লাহ খানের বংশধর পরিচয় দেওয়া নবাব – বিডি রাইট
সাহেদের চেয়েও বড় প্রতারক স্যার সলিমুল্লাহ খানের বংশধর পরিচয় দেওয়া নবাব

সাহেদের চেয়েও বড় প্রতারক স্যার সলিমুল্লাহ খানের বংশধর পরিচয় দেওয়া নবাব

সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে তাঁর বাবার অংশীদারি রয়েছে। ওই হাসপাতালে ৭০০ নার্স নিয়োগ করা হবে। বিনা খরচে এসব লোককে বিদেশে পাঠানো হবে। নিজেকে ঢাকার নবাব পরিবারের বংশধর অর্থাৎ স্যার সলিমুল্লাহ খানের বংশধর হিসেবে পরিচয় দিয়ে আলী হাসান আসকারী নামের সং’ঘব’দ্ধ প্র’তা’রকচক্রের এক দলনে’তার বি’রু’দ্ধে সোয়া তিন কোটি টাকা হা’তিয়ে নেওয়ার অভি’যোগ পাওয়া গেছে।

 

ফেনীর চার শতাধিক দরিদ্র লোকের কাছ থেকে তিনি এই টাকা হাতিয়ে নেন। ভু’ক্তভো’গী লোকজন এখন পথের ফকির। তাঁদের কেউ কৃষক, কেউ সবজি বিক্রেতা, আবার কেউ কারখানার শ্রমিক। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ধার করে টাকা নিয়ে একটু সুখের আশায় তাঁরা বিদেশ যেতে চেয়েছিলেন। এখন তাঁরা পথের ফকির। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের অ’পরা’ধ ও গো’য়েন্দা তদ’ন্ত বিভাগের সামনে এসব ভু’ক্তভো’গীর সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

 

এসব ভু’ক্তভো’গীর পক্ষে এ বিষয়ে কথা হয় ফেনীর বিখ্যাত রাশিদীয়া মাদরাসার সহকারী শিক্ষক আব্দুল আহাদ সালমানের সঙ্গে। তিনি গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসে আস’কারীর সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয় তাঁর। এরপর আসকারী প্রথমে নিজেকে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেন। সেই সঙ্গে তাঁর ফেসবুক প্রফাইলে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি দেখে সহজেই বিশ্বাস করে ফেলেন।

 

পরিচয়ের এক পর্যায়ে তাঁদের মধ্যে মোবাইল ফোনে কথা হয়। আসকারী তাঁকে তাঁদের মাদরাসায় স্থায়ীভাবে বিপুল অ’ঙ্কের টাকা দান করতে চান। এসব নিয়ে আলোচনার মধ্যেই আসকারীর কথামতো তিনি এলাকার যাঁরা সিঙ্গাপুর যেতে চান, এ রকম প্রায় ৪০০ লোক সংগ্রহ করেন। তাঁদের পাসপোর্ট হাতে নিয়ে বিষয়টি আসকারীকে জানালে আসকারী তাঁদের প্রত্যেককে মেডিক্যাল করতে হবে বলে জানান। এ জন্য প্রত্যেকের সাড়ে আট হাজার টাকা করে খরচ হবে। মেডিক্যালের কথা বলে তাঁদের দুই দফায় মোহাম্মদপুরের ঢাকা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন আ’সকারী।

 

এখান থেকে শুরু তাঁর প্র’তার’ণা। পরে প্রত্যেকের একটি করে নার্সিং সার্টিফিকেট জোগাড় করতে বলেন তিনি। নার্সিং সার্টিফিকেট ম্যানেজ করতে না পেরে তিনি এ বিষয়ে আসকারীর কাছে সহযোগিতা চান। এ সময় আসকারী বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) একজন কর্মকর্তার নাম্বার দিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। আসলে বিএমডিসির কথিত ওই কর্মকর্তা ছিলেন আসকারীর প্র’তা’রণার সহযোগী রাজু ওরফে রাশেদ।

 

রাশেদকে ফোন দেওয়ার পর তিনি কাজটি গো’প’নে করে দিতে পারবেন জানিয়ে এ জন্য প্রত্যেক সার্টিফিকেটের বিপরীতে ৭৫ হাজার টাকা করে দাবি করেন জানিয়ে সালমান বলেন, প্রথমে বিষয়টি নিয়ে তাঁর স’ন্দেহ হলেও পরে রাজি হয়ে যান তিনি। বিদেশগামী চার শ ব্যক্তির কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা করে নিয়ে তিনি ছয় দফায় মোট সোয়া তিন কোটি টাকা আসকারী ও রাশেদের হাতে তুলে দেন। এর পর থেকেই আসকারী টা’লবা’হানা শুরু করেন। পরে বুঝতে পারেন, তিনি আসলে প্র’তা’রিত হয়েছেন।

 

সালমানের ভাষ্য, পরিচয়ের পর তিনি যখন আসকারীর সঙ্গে দেখা করতে ঢাকায় আসেন, তখন তাঁর সঙ্গে একবার ধানম’ণ্ডির একটি রেস্টুরেন্টে এবং পরে ধানম’ণ্ডির জাহাজবাড়ির সামনে দেখা করেন। আসকারী এ সময় তাঁকে জাহাজবাড়িটি তাঁর বাবার এবং বাবা সেটির সংস্কারকাজ করাচ্ছেন বলে সালমানকে জানান। সালমান বলেন, ‘নবাব পরিবারের বংশধর হিসেবে আমি তাঁর সব কথাই বিশ্বাস করেছি।’

 

রাকিবুল এহসান মিনার নামের একজন আসক’রির বি’রু’দ্ধে লেখা চু’রির আ’ভিযো’গ করে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এই প্র’তার’ক ২০১৭ সালে আমার লেখা ১১ টি কবিতা নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছিলো। বিষয়টি নিয়ে অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি কেউই কিছু করতে পারেননি,নবাব পরিবারের সম্মানে সাংবাদিকেরাও নিউজ করেননি। আচ্ছা, তখন যে ভাইয়েরা আমাকে নবাব পরিবারের সম্মানের দোহাই দিয়ে প্র’তিবা’দ করতে দেননি আজ তারা কি বলবেন? বাংলার নবাব সলিমুল্লাহ্ খানের পরিবারের একজন সদস্য হয়ে কিভাবে এতোটা নিচু কাজ করতে পারলেন?

 

আমি তো সেদিনই আপনাকে চিনে গিয়েছিলাম যেদিন আপনার মতো মানুষ ছোটখাটো কবির লেখা চু’রি করে নিজের নামে চালিয়ে দিতে দুইবার ভাবেননি,আবার ইনবক্সে নক করার পর ব্ল’ক করে দিয়েছিলেন, আজ কোথায় গেলো আপনার সব ক্ষমতা,কোথায় গেলো নবাবী? কোথায় পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনীর প্র’টো’কল? আপনি না অক্সফোর্ড ও ঢাবির সভাপতি? আপনি না ২০০+ বইয়ের লেখক? আপনার উপর না ২৫ জন পিএইচডি করেছিলো? তাহলে এতো বড় সম্মানিত ব্যক্তির চরিত্র আজ জাতির সামনে এভাবে প্রকাশিত কেন হলো? নিশ্চই মহান আল্লাহ্ সুবিচারক,আলহামদুলিল্লাহ।’

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসকারী এ ধরনের প্র’তার’ণা আরো অনেক মানুষের সঙ্গে করেছেন। প্র’তা’রণার জন্য তিনি বহুরূপ ধারণ করতেন। তিনি কখনো নিজেকে নবাব সলিমুল্লাহ খানের বংশধর হিসেবে পরিচয় দিতেন, আবার কখনো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুফু হিসেবে পরিচয় দেন। প্রধানমন্ত্রীর পারিবারিক আত্মীয় হিসেবে গণভবনে তাঁর অ’বাধ যাতায়াত রয়েছে বলে প্রচার চালাতেন। এখানেই শেষ নয় তাঁর প্র’তার’ণা, জানান দুবাইয়ে আছে তাঁর গোল্ডের কারখানা।

 

বাবা ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, থাকেন নিউ ইয়র্কে। সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের মালিকানায় অংশীদারি রয়েছে তাঁদের। বাবার কোটি কোটি টাকার ব্যবসা পরিচালনা করেন তিনি নিজেই। তাঁর ফেসবুক প্রফাইলে রয়েছে মন্ত্রী-এমপিসহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি। চলেন বডিগার্ড নিয়ে। নিজে থাকেন নেদারল্যান্ডসে। বছর পাঁচেক ধরে দেশে এসেছেন। দানবীর। এ রকম আরো অনেক পরিচয় তাঁর। কিন্তু আসলে সবই ভু’য়া। সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্র’তার’ণা করাই তাঁর আসল পেশা।

 

প্র’তা’রণা করে এরই মধ্যে কোটি কোটি টাকা হা’তিয়ে নিয়েছেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) হাতে পাঁচ সহযো’গীসহ গ্রে’প্তার হয়েছেন তিনি। গত মঙ্গল ও বুধবার টানা দুই দিনের অ’ভিযা’নে তাঁকে গ্রে”প্তার করা হয় জানিয়ে সিটিটিসির ট্রান্সন্যাশনাল ক্রা’ই’মের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, নিজেকে নবাব বংশে’র পরিচ’য়ে প্র’তার’ণার মাধ্যমে আসকারী এরই মধ্যে দেশের অনেক মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হা’তিয়ে নিয়েছেন। আসকারী একজন ভ’য়ং’কর প্র’তার’ক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসকারী স্বীকার করেছেন, তাঁর এই প্র’তার’ণার কাজে সার্বক্ষণিক সহযোগী ছিলেন রাজুসহ আরো বেশ কয়েকজন। সূত্র: কালেরকণ্ঠ। 

খবরটি শেয়ার করুন





© ২০২০ | বিডি রাইট কর্তৃক সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত
Design BY NewsTheme